ভোট ময়দানে বিজেপিকে কটাক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের


 খবর দিনভর,পশ্চিম বর্ধমান: কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধকে টেনে কার্যত বিজেপিকে কৌরব বলে হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সমর্থনে বৃহস্পতিবার লাউদোহা ফুটবল মাঠের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন এই লড়াই ন্যায়ের বিরুদ্ধে অন্যায়ের, আমরা পাণ্ডব, বিজেপি কৌরব। এই রূপকের মধ্য দিয়েই তিনি বোঝাতে চান, আসন্ন নির্বাচন কেবল ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়, বরং মানুষের অধিকার, গণতন্ত্র ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার সংগ্রাম। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল এবং ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। তালিকা প্রকাশ না করা, রাজনৈতিক দল বা সংবাদমাধ্যমকে না দেওয়া সবকিছুকেই তিনি গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হিসেবে তুলে ধরেন। এই প্রেক্ষাপটে তিনি জনগণকে পাণ্ডবদের মতো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর কথায়,একটা আঙুল দিয়ে মুষ্টি হয় না, পাঁচটা আঙুল একসাথে হলেই শক্তি। এই ঐক্যই অন্যায়ের বিরুদ্ধে জয়ের মূল অস্ত্র। ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, তিনি সব ধর্মকে সমান গুরুত্ব দেন এবং রামনবমীর মতো উৎসবকে ঘিরে কোনও উস্কানিতে পা না দেওয়ার জন্য সকলকে সতর্ক করেন। অন্নপূর্ণা পুজোর শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আরও একবার মিলন ও সহাবস্থানের বার্তা দেন।রাজনৈতিক আক্রমণের পাশাপাশি উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট, আসানসোল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এবং কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দর, সবই তৃণমূল সরকারের সময়ে হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যসুবিধা, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা, যুব সাথী ও ছাত্রদের জন্য ক্রেডিট কার্ড সবই সাধারণ মানুষের পাশে থাকার উদ্যোগ। তিনি আশ্বাস দেন, লক্ষ্মীর ভান্ডার আজীবন চলবে এবং দুয়ারে সরকার কর্মসূচির মতো ভবিষ্যতে ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ পরিষেবাও চালু করা হবে। পাশাপাশি জানান, ইতিমধ্যেই ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষকে পাকা বাড়ি দেওয়া হয়েছে এবং বাকিদেরও দ্রুত সেই সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহে দেরি এবং পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি নিয়েও তিনি তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর কটাক্ষ, “গ্যাস রান্নাঘরে নয়, প্রচারের গ্যাস বেলুনে যাচ্ছে।” নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিজেপির পার্টি অফিস থেকেই প্রশাসনিক বদলির নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ভোটের দিন ও গণনার দিন কোনও রকম জোরজবরদস্তি হলে সাধারণ মানুষকে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি, বিশেষ করে মহিলাদের উদ্দেশে বলেন, অধিকার রক্ষায় পিছিয়ে পড়া যাবে না। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, টাকার বিনিময়ে ভোট না দিয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে হবে। এনআরসি ও ডিটেনশন ক্যাম্প প্রসঙ্গে আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, তৃণমূল সরকার থাকাকালীন কাউকে সেই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে দেওয়া হবে না।কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে দেউচা পাচামি প্রকল্পে প্রায় এক লক্ষ চাকরির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বাংলাকে আগামী দিনের শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে বেকারত্ব কমেছে, যেখানে দেশে তা বেড়েছে। শেষে আবেগঘন সুরে তিনি বলেন, আমি যদি যোদ্ধা হই, আপনারা সহযোদ্ধা। অন্যায়, চক্রান্ত আর বিভাজনের রাজনীতিকে পরাজিত করে পাণ্ডবদের মতোই আবার জিতবে বাংলা। এই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন পাণ্ডবেশ্বর তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর পাশাপাশি আসানসোল উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী মলয় ঘটক কুলটির তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ ঘটক জামুরিয়ার তৃণমূল প্রার্থী হরে রাম সিং রানীগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী কালো বরণ মন্ডল সহ তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় ও জেলা নেতৃত্ব।

Comments

Popular posts from this blog

উল্টোডাঙা ফ্লাইওভারে ভয়াবহ পথদুর্ঘটনা, মৃ*ত 2, আহত 2

কবে বঙ্গে ভোট ? ঘোষিত হবে আজ?

ডি এ দেওয়ার ঘোষণা করলো মুখ্যমন্ত্রী